রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আগামী শনিবার সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাঙ্গামাটির সাজেকে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ওই অবরোধ ডাকা হয়েছিল বলে সংগঠনটি জানায়।
ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।
পুলিশ জানায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা তাঁদের আটকে দেন। এতে পর্যটকেরা প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থাকেন।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইউপিডিএফের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি চালান বলে জানানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটক, সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন। এ সময় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, গোলাগুলির ঘটনার পর ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও জানান, গোলাগুলির আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয় সদস্য আহত হন।
আরও পড়ুন:







