বৃহস্পতিবার

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

ভূমিহীনদের জমি দখলের অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী নুরের স্বজনদের বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৯

শেয়ার

ভূমিহীনদের জমি দখলের অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী নুরের স্বজনদের বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত

সরকারের দেওয়া বন্দোবস্তের জমি, অথচ নিজেদের সেই জমিতে নামতেই পারছে না ভূমিহীন কৃষকেরা। জমি মাপতে গেলে জুটছে মারধর আর হামলা, হতে হচ্ছে গৃহবন্দী। আর এই অন্যায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের স্বজন ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাস্থল চরবাংলা, মানববন্ধনে ভূমিহীন কৃষকেরা

ঘটনা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা এলাকায়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের সড়কে জমি উদ্ধার ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধনে নামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বড় ভাই নুর জামাল, শ্যালক মহিব্বুল্লাহ এনিম এবং তাঁর অনুসারী রুহুল আমীন হাওলাদারসহ তাদের অনুসারীদের প্রভাবেই বেহাত হচ্ছে তাঁদের বন্দোবস্ত পাওয়া তরমুজ চাষের জমি।

দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ

অভিযোগের সূত্রপাত গত রবিবার (১৮ অক্টোবর)। ইউসুফ মাদবর নামে এক কৃষক নিজের বন্দোবস্তের জমি মেপে বেড়িবাঁধ দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন রুহুল আমীন এবং তার লোকজন। এতে ৭০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। শুধু মারধরই নয়, প্রায় তিন ঘণ্টা একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাঁদের।

বেঁচে থাকার অবলম্বন নিয়ে প্রশ্ন

কৃষক পরিবারগুলোর কাছে এই চরের জমি শুধু মাটি নয়, বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো স্বামীহারা আকলিমা বেগম কিংবা ভুক্তভোগী হনুফা বেগমের প্রশ্ন, কাগজপত্র থাকার পরও কেন তাঁরা নিজেদের জমিতে নামতে পারবে না?

রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে জমি উদ্ধার এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে, চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, সঠিক কাগজপত্র থাকলে কৃষকেরাই জমির মালিকানা পাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইউসুফ।

কাগজপত্র থাকার পরও ভূমিহীনদের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের। প্রতিমন্ত্রীর স্বজনদের দাপট পেরিয়ে কৃষকেরা কি শেষ পর্যন্ত নিজেদের অধিকার ফিরে পাবে? এখন সেটিই দেখার বিষয়।