চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদ্রাসা ভবনে অবৈধ মেলার আয়োজন নিয়ে ‘বাংলা এডিশনে’ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রচারের পর নিজেদের অপকর্ম ও অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘চট্টগ্রাম প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন (সিডিডিএস)’-এর স্বঘোষিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কমিটির বৈধ কোনো নথিপত্র দেখাতে না পারলেও, উল্টো বেরিয়ে এসেছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতারণার দায়ে তার ৭৬ দিন জেল খাটার চাঞ্চল্যকর তথ্য। গতবছর ২০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে সাবেক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল্লাহ নুরীর মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর সিআরএ হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে সংগঠনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন। অথচ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার গল্প বলা হলেও, আশ্চর্যের বিষয় হলো পুরো সংবাদ সম্মেলন জুড়ে তসলিম হোসেন ছাড়া আর কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল না। এমনকি নিজের দাবির সপক্ষে কোনো বৈধ পদবি বা অনুমোদিত কমিটির নথিপত্রও তিনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তসলিম স্বীকার করেন, মেলার বিতর্কিত আয়োজক এমরান এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার কাছে এসেছিলেন। প্রথমে শর্ত না মানায় প্রতিবন্ধী সংগঠনের পক্ষ থেকে মেলার আবেদন করার অনুমতি দেয়া হয়নি দাবি করলেও, পরে জানতে পারেন যে সংগঠনের নাম ও প্যাড ভাঙিয়ে অবৈধভাবে মেলা চালানো হচ্ছে।
সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এমন গুরুতর জালিয়াতি ও অপকর্মের কথা জানার পরও, অভিযুক্ত এমরানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেননি স্বঘোষিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম। উল্টো মেলা শেষে ১০ জন কথিত প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান এবং সংগঠনের কথিত নতুন অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে জালিয়াতি ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানী খবর প্রকাশের পর থেকেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ায় বেসামাল হয়ে পড়ে চক্রটি। প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে এবং সংবাদ সামাল দিতে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছে মেলার আয়োজকরা।
সংগঠনের কোনো বৈধ পদ-পদবি না থাকা এবং এর আগেও প্রতারণার মামলায় জেল খাটার তথ্য প্রকাশ্যে আসায়, তসলিম হোসেনের এই সংবাদ সম্মেলনটি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মীদের কাছে বিভ্রান্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিবন্ধী সংগঠনের এই স্বঘোষিত নেতা ও তার সহযোগীদের আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:







