পঞ্চগড়ে ভিড় জমিয়েছিলেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক।বৃহস্পতিবার সকালে এমন চিত্র দেখা যায় তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোতে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার প্রত্যাশা নিয়ে এসে দর্শন না পাওয়ায় চরম হতাশায় ঘরে ফিরতে হচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুদের। এদিকে ডাকবাংলো পিকনিক কর্ণারের অব্যবস্থাপনার কথাও জানিয়েছেন পর্যটকরা।
ভ্রমণ পিপাসুরা জানান, বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য এসেছে। আসার পর কয়েকদিন ধরে দেখছে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। তাদের অভিযোগ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও কিছু মানুষ তাদের হোটেল ব্যবসার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে বলে জানান তারা।
জানা যায়, কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানসহ তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো থেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখা মিলে পর্বতটির। চলতি মাসে একদিন দেখা গেলেও পরে আর দেখা মিলেনি পর্বতটির।
পূজার ছুটিতে গাজীপুর থেকে মমতাজ উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে না পেরে
হতাশায় ফিরতে হচ্ছে। একই কথা জানাচ্ছিলেন নওগাঁ থেকে আসা দিল আকরাম। তবে তিনি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পারলেও সমতলের চা বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টসহ
দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেছেন।
ফাইয়াজ বিনতে আফরোজ জানান, ডাকবাংলোয় পর্যটকদের এতো জনসমাগম। একটি পাবলিক টয়লেট রয়েছে কিন্তু সেখানে পানির কোন ব্যবস্থা নাই। বোতলের পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন,চলতি মাসের শেষে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। ফলে পাহাড় দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরের শুরুতে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটক অনেক বেশি হওয়ায় ডাকবাংলোয় একটি পাবলিক টয়লেটে হয়না।আমরা খুব তারাতাড়ি সেখানে একটা দৃষ্টিনন্দন পাবলিক টয়লেট স্থাপন করব।জেলা পরিষদের অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।
আরও পড়ুন:







