রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা। এ সময় উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যায় অবরোধকারীদের। পরিস্থিতিতে নারীদের সামনের সারিতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অবরোধ কর্মসূচিতে নারীদের সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। তাদের দাবি, নারীদের সামনে রাখার মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, অবরোধের ডাক দেয়া সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের মদদপুষ্ট বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, ইউপিডিএফ পেছন থেকে এই সংগঠন দুটিকে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে অবরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করাচ্ছে। এর ফলে সাজেকের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
অন্যদিকে, সাজেকে অবরোধ কর্মসূচির পেছনের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, অবরোধের আয়োজক দুই সংগঠন সাজেক থেকে সন্তু লারমা-সমর্থিত জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার দাবি জানালেও একই এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ বা তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার দাবি কেন তুলছে না?
স্থানীয়দের একাংশের মতে, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হলেও অন্য একটি গোষ্ঠীর বিষয়ে একই ধরনের দাবি না তোলার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হলে সেখানে ইউপিডিএফের প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউপিডিএফকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলছেন তারা।
এ ছাড়া অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে নারীদের অবস্থান নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, নারীদের সামনের সারিতে রেখে বাহিনীর কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কৌশল নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাজেক পর্যটন সড়কে এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। বিরতির পর বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:







