ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সদর মডেল থানা-পুলিশ। পৃথক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দেশীয় অস্ত্র, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার ২১ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে অভিযান চালিয়ে নয় কিশোরকে আটক করে পরে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়িয়া এলাকায় ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের পেছনে একটি খালি জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে জসিম মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ার বজলু মিয়ার ছেলে।
অভিযানে তাঁর কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার, একটি লোহার দা ও তিনটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এরপর রাত ৮টার দিকে শহরের ব্যস্ততম কাউতলী মোড় এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার তাহের মিয়ার ছেলে রিয়াদ মোর্শেদ ওরফে সাগর (৩২), নবীনগর উপজেলার কুরেঘর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জামাল মিয়া (৩৫) এবং একই এলাকার মনিচান মিয়ার ছেলে ছগির মিয়া (৩৬)।
পুলিশ জানায়, তাঁদের কাছ থেকে পিস্তলের চার রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিয়মিত মামলা ও বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারসহ মোট ২১ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিআর পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত চারজন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় পাঁচজন, নিয়মিত মামলার ছয়জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তিনজন রয়েছেন।
এদিকে, শহরের কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধে বিশেষ অভিযান চালায় সদর মডেল থানা-পুলিশ। এ সময় নয় কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে সতর্ক করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অস্ত্র ও মাদকসহ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও কঠোর নজরদারি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:







