ঢাকার আশুলিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মারধর, পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং অর্থ ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক তরুণীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকার মামুন হোসেন সজিবের বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খন্দকার মেহেদী হাসান (২৪), মোসাঃ সাবিনা ইসলাম (২০) এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মো. পারভেজ বিশ্বাস (৩৪) নামের এক যুবক সাভারে তাঁর বর্তমান ঠিকানা থেকে ঘুরতে বের হন। পরে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ওভারব্রিজের নিচ থেকে নিজের বর্তমান ঠিকানায় ফেরার পথে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী তাঁর মোটরসাইকেলে লিফট চান। ওই নারীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিতে রাজি হন তিনি।
পরে ওই নারীর কথামতো আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আল-নূর মসজিদের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি তাঁর মোটরসাইকেলের সামনে এসে তাঁকে নামতে বলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা পারভেজকে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি অজ্ঞাত বাঁশবাগানের ভেতরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণকারীরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পারভেজের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর কাছে টাকা না থাকায় এবং তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় অপহরণকারীরা তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরে ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের মোবাইল নম্বরে থাকা নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পাঠায়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর নিজের মোবাইল নম্বরে থাকা নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। অপহরণকারীরা তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্লুটুথ হেডফোনও নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পরে তাঁকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাদীর কাছ থেকে নেওয়া মুক্তিপণের নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







