বুধবার

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে এক মাঠেই মসজিদে নামাজ আদায়-মন্দিরে পুজা অর্চনা

মো.সম্রাট হোসাইন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৩

আপডেট: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫৪

শেয়ার

পঞ্চগড়ে এক মাঠেই মসজিদে নামাজ আদায়-মন্দিরে পুজা অর্চনা
ছবি: বাংলা এডিশন

পঞ্চগড়ে এক মাঠেই মসজিদে আদায় হয় নামাজ পাশেই মন্দিরে হয় পুজা অর্চনা। এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যেই চলে হিন্দু ও মুসলমানেরা। এতে প্রশাসনের আলাদা কোন দায়িত্ব দিতে হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য পুজা মন্ডপের মতই এখানেও পুজা হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকায় জিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে, নুতুন হাট জামে মসজিদ ও জিতাপাড়া দূর্গামন্দির অবস্থিত।

জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় ৩০১ টি মন্দিরে চলছে পুজা অর্চনা। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হিন্দু মুসলিম এক সাথে নিজেদের সময় দেখেই তাদের নিজের কাযক্রম সমাধান করে। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যেই এই মসজিদ ও মন্দিরের কার্যক্রম প্রায় ২৫-৩০ বছর থেকে করে আসসে এখানকার হিন্দু ও মুসলমানেরা। এখানে আযান ও নামাজের যে সময় নির্ধারন করা আছে তা পুজা কমিটির লোকজনদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ঠিক সেই সময় গুলোতে পুজা কমিটি মাইক ও পুজা অর্চনা বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা চলে যাওয়ার পর পুজা অর্চনা আবার শুরু করা হয়।

হিন্দু ধর্মের রঞ্জিত ও জগদীশ বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, আমরা এখানে এক সাথে মিলেমিশেই থাকি। আমাদের কোন ধরনের সমস্যা হয় না।

মসজিদের মুসুল্লিরা জানান, এটা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসছে এই নামাজ ও পুজা। আমাদের আযান ও নামাযের সময়ে মাইক ও পুজা অর্চনা বন্ধ রাখেন।

জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভিন বলেন,

একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির এটা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জল দৃষ্টান্ত। এখানে পারস্পারিক শ্রদ্ধা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের ধর্মের উপাসনা চলে নিজেদের নিয়মে। একজনের উপসনার সময় হলে আরেকজন শ্রদ্ধাবোধ থেকে তাদেরকে সুযোগ করে দেয়। এই সম্প্রীতির চর্চা যেন সমাজের প্রতিটি স্থরে হয়, তাহলে সমাজে শান্তি বজায় রাখা সহজ হবে।