মঙ্গলবার

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ কার্তিক, ১৪৩৩

মহেশপুরে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জামাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার শ্বশুর

ইসমাইল খান ইয়ানবী,মহেশপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৫

শেয়ার

মহেশপুরে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জামাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার শ্বশুর
ছবি: বাংলা এডিশন

ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের জেরে জামাই গোলাম রহমান ওরফে আব্দুর রহমানকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুর তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়াল জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মহেশপুর উপজেলার ১২ নম্বর আজমপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গোলাম রহমান ওরফে আব্দুর রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হুদা নাইড়িপাড়া গ্রামের কারী গোলামের ছেলে। গ্রেপ্তার তরিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামের মৃত গাজী রহমানের ছেলে।

পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান ওরফে আব্দুর রহমান। বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে শ্বশুর তরিকুল ইসলামের মনোমালিন্য চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে তরিকুল ইসলাম ধারালো কুড়াল দিয়ে জামাইকে এলোপাতাড়ি কোপান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো কুড়ালটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম চলছিল। এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকেও থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমরান আলম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়াল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পারিবারিক বিরোধের জেরে জামাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বলিভদ্রপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে পুলিশ।