মঙ্গলবার

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ কার্তিক, ১৪৩৩

২ ফ্যান ও ১ ফ্রিজ চালিয়ে এক মাসে বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:১৬

শেয়ার

২ ফ্যান ও ১ ফ্রিজ চালিয়ে এক মাসে বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা
ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার একটি সাধারণ আবাসিক পরিবারে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। আটটি এনার্জি বাল্ব, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও একটি আইপিএস ব্যবহার করে যেখানে পরিবারটির মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা বিল আসত, সেখানে হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল আসায় হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, বাড়িটির বিদ্যুৎ মিটার প্রয়াত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি।

গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলামের দাবি, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁদের পরিবারে মাসে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের বিলে একলাফে ৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে।

শহীদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। চলতি মাসের বিল হাতে পেয়ে তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। সাধারণ লাইট-ফ্যান ব্যবহার করে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতকারীদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে এ ধরনের ভুতুড়ে বিলের বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

শহীদুল ইসলাম আরও জানান, বিষয়টি বিল বিতরণকারী কর্মীকে জানানো হলে তাঁকে চাটখিল কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল করবেন, আর সাধারণ মানুষকে সেই ভুল সংশোধনের জন্য তাঁদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিলের কপি দেখতে চান। পরে গ্রাহকের মূল বিলের কপি পাঠানো হলে তিনি ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি স্বীকার করেন।

জুনায়েদুর রহমান জানান, ভুলবশত এমন বিল তৈরি হয়েছে। দ্রুত ওই গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করা হবে এবং সংশোধিত বিল পৌঁছে দেওয়া হবে।