ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে ইকবাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলম মিয়াসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শনিবার গাজীপুরের জয়দেবপুর ও গাছা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি হলেন জিয়াউল আলম ছোট্ট। গ্রেপ্তার দুজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এসআরবি-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এসআরবি-১, সিপিএসসি, গাজীপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, নিহত ইকবাল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পূর্ববর্তী মামলা-মোকদ্দমাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় ভোরের বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে খাগাতুয়া এলাকার ভোরের বাজার সেতুর পাশে হামলার শিকার হন ইকবাল।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আলম মিয়ার নির্দেশে অন্য অভিযুক্তরা দা, লোহার রড, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইকবালের পথরোধ করেন। পরে তাঁকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
ইকবালের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ইকবালকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যরা দেবিদ্বার হাড়ভাঙ্গা পঙ্গু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যা মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর বাজার এলাকায় এবং সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:২০ মিনিটে গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ ও ২নং আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ আভিযানিক দলটি।
গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এসআরবি আরও জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







