চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয় দিয়ে মো. এহসান প্রকাশ হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় তাঁর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন একজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কালো পোশাক ও মুখে কালো মাস্ক পরা চার ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এহসানকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। অপর দুজন বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের পোশাকে এসআরবির লোগো (ফেইক) ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাপোড়া থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে অন্য একটি অটোরিকশায় তাঁকে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে তাঁকে বহনকারী ব্যক্তিরা নাপোড়ায় কীভাবে এসেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাঁকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেরিয়াকাটা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন। ঘটনার দিনও তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।
এহসানের চাচাতো ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, 'আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, এসআরবি পরিচয়ে যাঁরা আমার ভাইকে নিয়ে গেছেন, তাঁরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন। কারা এবং কী কারণে তাঁকে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা তাঁর দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন চাই।'
বাঁশখালী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশার চালকদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাঁরা এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বাংলা এডিশন'কে বলেন, 'ব্যবসায়ী এহসানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পেকুয়ার নেজাম উদ্দিন প্রকাশ রেজু নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁকে তুলে নেয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।'
এদিকে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলা এডিশন'কে জানান, ব্যবসায়ীকে তুলে নেয়ার ঘটনায় এসআরবির পরিচয় ব্যবহারকারীরা প্রকৃত সদস্য নন। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর পরিবার তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে তাঁকে তুলে নেয়ার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:







