রবিবার

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

কাজের সময় লুটিয়ে পড়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু, সিসিটিভিতে যা দেখা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৫

শেয়ার

কাজের সময় লুটিয়ে পড়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু, সিসিটিভিতে যা দেখা গেল
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সুমি আক্তার ওরফে মিশু (২৭) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মকর্তাকে সুমির সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা গেছে। ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত সুমি আক্তার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খোকারহাট এলাকার বজলার মিয়ার মেয়ে। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার সালামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডে সুমি নিজের মেশিনে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁর পাশে পাঞ্জাবি পরা একজন পুরুষ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৫টা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে কিছুটা দূরে থাকা পাঞ্জাবি পরা আরেক কর্মকর্তা তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন। ওই কর্মকর্তা সুমির মেশিনে চাপড় মারতে থাকেন এবং কয়েক দফায় আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। একপর্যায়ে সুমির হাত থেকে কাজের কাপড়টি নিয়ে ফেলে দেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, এসব ঘটনার মধ্যেই বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে মেশিনে বসা অবস্থায় ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন সুমি। তখন ওই কর্মকর্তা কিছুটা দূরে সরে যান। সুমিকে পড়ে যেতে দেখে পাশের মেশিনে কাজ করা নারী শ্রমিকেরা একে একে তাঁর কাছে এগিয়ে আসেন। পরে বিকেল ৫টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে তাঁকে একটি স্ট্রেচারে তোলা হয়।

অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছিলেন সুমি

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু সিসিটিভি ফুটেজ, নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কারখানায় উৎপাদন চলছিল। সুমি অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দুপুরে বাসায় খেতে গিয়ে তিনি ছেলেকে নিজের অসুস্থতা ও কারখানায় কাজের চাপের কথা জানিয়েছিলেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা

নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন-অর-রশীদ জানান, আগামী অ্যাপারেলস থেকে সুমি আক্তার মিশুকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

হারুন-অর-রশীদ জানান, সুমির স্বামী কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরে মৃত্যুসনদ দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্বামীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

তবে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নেওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বাধা দেন বলে জানান তিনি। এ সময় নিহতের স্বামী ও স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এরপর আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে মরদেহ থানায় নিতে বলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে মরদেহ আশুলিয়া থানায় নিয়ে যেতে বলা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মরদেহ

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলছিলেন। সমালোচনা এড়াতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মকর্তাকে সুমির সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।