নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদকের চালান দেখে ফেলা ও বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার পরিবারের ওপর নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই নেতার ছোট ছেলেকে অপহরণ করে আটকে রেখে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। পরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দুর্গাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা ইমান আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
জাহাঙ্গীরের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে তাঁদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে ইমান আলী বলেন, উপজেলার শিমুলতলী এলাকার জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক কারবার, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাঁর ছোট ছেলে মো. রায়হানকে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় মুঠো ফোনে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে অপহরণ করে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা দাবি করা মুঠোফোন নম্বর শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরদিন বিকেলে রায়হানের হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমান আলী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের ভয়ে আমরা এখন বাড়ি ছাড়া। পুরো পরিবার নিয়ে নিজের ভিটায় ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চাই।’ তিনি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার, অভিযোগ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো পদে তিনি ছিলেন না, তবে দলটির নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাঁর দাবি, ইমান আলীর কাছে ২৮ লাখ টাকা এবং পরিচিত আরেক ব্যক্তির দেড় কোটি টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, নির্যাতন ও চোরাচালানের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি। দলীয় পদ-পদবি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, 'অপহরণের বিষয় নিয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে শুনেছি। দুর্গাপুর থানায় এ নিয়ে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
আরও পড়ুন:







