‘ডানে চাঁদাবাজ, বামে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করি না। চাঁদা তুলে আমার চলতে হয় না, যা আছে আলহামদুলিল্লাহ।’ এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ডানে চাঁদাবাজ, বামে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করি না। চাঁদা তুলে আমার চলতে হয় না, যা আছে আলহামদুলিল্লাহ।
আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চাঁদা দিয়ে আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। বাংলাদেশে এমন অবস্থা হয়েছে, গরু-মহিষ ঘাস খাইলেও চাঁদা দিতে লাগে, পুকুরে মাছ চাষ করতে গেলেও চাঁদা দেওয়া লাগে।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরোপুরি ব্যর্থ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ সরকার থাকলে একা একজন এমপির পক্ষে খুব বেশি দূর আগানো সম্ভব না। আপনারা যদি আমার হাতকে শক্তিশালী করেন, আমি আমার দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় বর্তমান সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ছয় মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছিল। অথচ "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" এর ধাক্কায় ঢাকা শহরের কত শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে কত কারখানা বন্ধ হয়েছে, খোঁজ নিয়ে দেখেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে এবং জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে।
কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যানের ধাক্কায় সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরে আল্লাহর ওয়াস্তে খবর নেন, দেখেন কয়টা ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। ওই প্ল্যানের ধাক্কায় আমার কত শ্রমিক ভাই চাকরি হারাইছে, একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন।
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে কটাক্ষ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন সরকার পেলাম যাদের নামই হলো টুকু নাই, টুকু নাই, টুকু কই? টুকু তো আর আসে না। টুকু মাঝেমধ্যে আসে বটে, কিন্তু টুকু আমাদের ঘরে থাকে না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?
নিজের নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার এলাকায় চাঁদাবাজি হলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না।
এ সময় নিজের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁর কোনো কর্মী ভোটারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলেও বিষয়টি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন:







