শুক্রবার

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

‎সিলেট কাউন্সিলরহীন সিসিক নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি

‎আক্তার হোসেন,সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৬

শেয়ার

‎সিলেট কাউন্সিলরহীন সিসিক নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি
ছবি; সংগৃহীত

‎কাউন্সিলর না থাকায় মারাত্মক নাগরিক সংকটে পড়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। জনপ্রতিনিধিহীন ওয়ার্ডগুলোতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না নগরবাসী। নিজেদের মূল দায়িত্ব সামলে ওয়ার্ডের অতিরিক্ত কাজ চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় নানা সনদের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিসিকের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রশাসকের অধীনে সিটি করপোরেশনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১৪ জন কর্মকর্তার ওপর। তবে দ্বৈত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ব্যস্ততার কারণে সেবার গতি একেবারেই ধীর হয়ে পড়েছে।

‎সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ এবং নাগরিকত্ব প্রত্যয়নপত্রের মতো জরুরি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক ওয়ার্ডে অনলাইন সেবা পুরোপুরি চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা। বারবার ওয়ার্ড কার্যালয়ে গিয়েও অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না।

‎শুধু সনদপত্র সংগ্রহেই নয়, জটিলতা তৈরি হয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রেও। পাশাপাশি সড়ক মেরামত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাবদ্ধতা দূর করার মতো মৌলিক সেবাগুলোতেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ নগরবাসী। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।