শুক্রবার

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগ, দেবাশীষের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণে সমালোচনা

মো.মোজাম্মেল হোসেন,ধামরাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩১

শেয়ার

ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগ, দেবাশীষের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণে সমালোচনা
ছবি; সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়ে মুচলেকায় মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা৷

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেবাশীষ চৌধুরীর নামের একটি দাওয়াত কার্ডের মাধ্যমে বঙ্গভবনের আমন্ত্রণ পত্র দেখা যায়৷ আমন্ত্রণপত্র কার্ড টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়৷

জানা যায়,শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে

নিমন্ত্রীত ব্যক্তি বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্ট করানো দেবাশীষ চৌধুরী ঢাকার ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ পাওয়া দেবাশীষ চৌধুরী এবছরের ২ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে শুধু লিখিত মুচলেকায় মুক্তিই নয় তার গাড়িতে থাকা দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়৷

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী ২০১৮ সালে ধামরাইয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ইয়াবা ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি হয়, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তাকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে তিনি জামিনে বের হয়ে যান।

নেটিজেনদের বিভিন্ন মন্তব্যে উঠে আসছে ,সুশিক্ষিত সামাজিক ও ধর্মীয় পন্ডিত ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে বিতর্কে জড়ানো, ধর্ষণ মামলার একজন আসামী কীভাবে বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন, এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

এবিষযে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম আহবায়ক ফয়সাল হোসেন খান বাংলা এডিশন কে বলেন,বিএনপি দেওলিয়াত্তের শেষ পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এখন শুধু ঘোষণা করা বাকি। ধর্ষক যখন শারদীয় দুর্গাপূজার ধর্মীয় উৎসবে রাষ্ট্রের অভিভাবকের অতিথি হয় রাষ্ট্র তখন "অনিরাপদ" হিসেবে ঘোষিত হয়।

দেবাশীষ চৌধুরী বাংলা এডিশন কে বলেন, বঙ্গভবনে যে দাওয়াত কার্ড পেয়েছি, সেটি শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আমি ধামরাইয়ের সাধারণ সম্পাদক। এ ধরনের যারা আছেন, তাদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জেলা থেকে একজন করে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এটি শুধু আমাদের সনাতনী পরিবার থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷

শুধু অন্য রাজনৈতিক দল নয়, বঙ্গভবনের আমন্ত্রণ নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেবাশীষ চৌধুরী। তাদের দাবি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করা উচিত।