শুক্রবার

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

ফাঁস প্রশ্নপত্র ওরা ডাক্তার নিপাকে নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৯

আপডেট: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৯

শেয়ার

ফাঁস প্রশ্নপত্র ওরা ডাক্তার নিপাকে নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না
ছবি সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পর বদলি হয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. হেলেনা আক্তার নিপা। এবার আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী শাকিল আহম্মেদ। এর আগে প্রশ্নপত্র কিনে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ নিয়েও তাঁকে ঘিরে আলোচনা হয়েছে।

নিয়োগপত্র পেতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাকিল আহম্মেদ ২০২২ সাল থেকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুক-মশালচি পদে কর্মরত। প্রতি বছর নিয়োগপত্র নিয়ে তাঁকে কাজ করতে হয়। তবে চলতি অর্থবছরে এখনো নিয়োগপত্র পাননি তিনি।

শাকিলের অভিযোগ, নিয়োগপত্র নিতে গেলে তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে কাজে না আসার কথাও বলা হয়েছে।

শাকিল আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত আটজন কর্মচারীর কাছেই নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিতে পারছেন, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। আর যাঁরা দিতে পারছেন না, তাঁরা নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না।

তাঁর দাবি, পান্না খাতুন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আয়া পদ থেকে টিকিট ক্লার্ক পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এ বিষয়ে পান্নার স্বীকারোক্তি রয়েছে বলেও দাবি করেন শাকিল।

অন্যদিকে, শিমু খাতুন নামে এক টিকিট ক্লার্ক অভিযোগ করেন, তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি ৪০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে নিয়োগপত্র না দিয়ে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শিমু।

শাকিল জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা নিয়োগপত্র পেতে ঘুষ দাবির বিষয়টি তাঁকে জানান। তখন মন্ত্রী কাউকে ঘুষ না দিতে এবং ঘুষ দাবি করা হলে তাঁকে জানাতে পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন শাকিল।

শাকিলের ভাষ্য, এর আগে নিয়োগপত্র পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হয়নি। কিন্তু ডা. হেলেনা আক্তার নিপা যোগদানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে একের পর এক অনিয়ম করা হচ্ছে। নিয়োগপত্র পেতেও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল ওয়াফা সিকিউরিটি সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কারও কাছে টাকা চাইলে বা নিলে সেটি তাদের বিষয়।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দামুড়হুদায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এর আগে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে ডা. হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে অন্তত চার কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া ক্রয় ভাউচারের মাধ্যমে এ অনিয়ম করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পারসোনেল-৪ শাখায় সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভর সহযোগিতায় ডা. নিপাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার পরিবর্তে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বদলি করা হয়েছিল।