পটুয়াখালীর বাউফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে সাংবাদিক মো. মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলার ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।
এ মামলায় উপজেলা কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাবেক সভাপতিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামিকরা হয়েছে।
গত বুধবার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বাদী মো. মাসুম বিল্লাহ জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি তিনি ‘Bauphal News 24’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিও প্রচার করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাউফলের শৌলা এলাকায় জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগে এক শিবির নেতাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ। পরে সংবাদটি ‘খবর বাউফল’ ও ‘বাউফল টুডে’ ফেসবুক পেজেও প্রচারিত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের দিকে মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আমিনুল ইসলাম নিজের মোবাইল ফোন থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য, হুমকি এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগসংবলিত ভিডিও প্রচার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, এসব বক্তব্য ও ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর অভিযোগ ছড়িয়ে পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ গত ১৯ আগস্ট বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৭০) করেন। পরে গত ৪ অক্টোবর বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার পিটিশন মামলা নং-২৬২/২০২৬ দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- বাউফল উপজেলার কালাইয়া ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম, মো. আমিনুল ইসলাম, কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ইমরান খান এবং মো. আবুল কালাম হাওলাদার ওরফে কালু। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কে এম মাহাবুবুর রহমান সেন্টু জানিয়েছেন, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তকরণ এবং আইপি লগ, লগইন হিস্ট্রি ও মেটাডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত প্রয়োজন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিআইডির ইনচার্জ তুষার কান্তি দাস বলেন, সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাটি আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমাদের কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
ছবি- বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম ও কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ইমরান খান।
আরও পড়ুন:







