চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একাধিক মাদক মামলার আসামি ও মাদকের স্থানীয় ডিলার হিসেবে পরিচিত মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে গভীর রাতে রেস্তোরাঁয় বসে পুলিশের আপ্যায়নের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের দাবি, একটি লিখিত অভিযোগের তদন্তের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে তিনি অভিযোগকারীর সঙ্গে বসেছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরী খাসমহল এলাকার আস ছাফা রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে এএসআই আলমগীরকে দুই কনস্টেবলসহ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। পরে জাহাঙ্গীরকে খাবারের বিল পরিশোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে এএসআই আলমগীর বাংলা এডিশনকে বলেন, তিনি বাঁশখালী থানায় নতুন যোগ দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন মামলা থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। গত ২২ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম কালীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান তিনি।
এএসআই আলমগীরের ভাষ্য, অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে জাহাঙ্গীরকে বলা হয়েছিল। বুধবার রাতে তাঁর কাছে একটি খালি চেক থাকার কথা জানিয়ে সেটি দেওয়ার জন্য রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন জাহাঙ্গীর। ওই রাতে তাঁর বাহারছড়া এলাকায় দায়িত্ব ছিল। তিনি ইলশা গ্রাম থেকে সেখানে যান। নথিপত্র সংগ্রহের জন্যই তাঁদের বসা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্যের সড়কে চলাচলের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, জাহাঙ্গীর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা বলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যদিও এ দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় যুবক মো. মারুফ বাংলা এডিশনকে বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। মারুফের ভাষ্য, স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ ও মাদক কারবারের অভিযোগের মধ্যে গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে তাঁর এমন সাক্ষাৎ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে–এমন ধারণা কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এএসআই আলমগীর অবশ্য জাহাঙ্গীরকে নিয়ে বাজার এলাকায় টহল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে তিনি নিচে নেমে যান। জাহাঙ্গীরকে তিনি কেবল একটি অভিযোগের বাদী হিসেবেই চেনেন। জাহাঙ্গীর পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে বেড়ালে তাঁর কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, কোনো অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। হয়তো তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁরা বসেছিলেন। তবে গভীর রাতে অভিযোগকারীর সঙ্গে বসার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের আস্তানা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। সতর্ক করার পরও মাদক কারবার অব্যাহত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পারভিন আক্তার ওই ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গভীর রাতে রেস্তোরাঁয় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য, আপ্যায়নের পরিস্থিতি এবং এ ঘটনায় পুলিশের পেশাগত নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
আরও পড়ুন:







