কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রকল্পের ইলেকট্রনিক টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামালকে হেনস্তা ও মারধরের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্প পরিচালক। এ ঘটনার চার মিনিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজে টেন্ডারের শর্ত নিয়ে আলোচনা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের দৃশ্য দেখা গেছে। তবে মারধরের হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিন্টু।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার চলমান রয়েছে। ওই টেন্ডারে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে আইএসও সনদ বাধ্যতামূলক করার শর্ত নিয়ে আপত্তির সূত্র ধরে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ শর্তকে কেন্দ্র করেই প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের পরপরই তাঁর পেছনে পেছনে হাসানুর জামান মিন্টু ও মিলন নামে দুজন কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা চলমান ইলেকট্রনিক টেন্ডারটি তাঁদের দেয়ার কথা বলেন। এ সময় মোস্তফা কামাল তাঁদের জানান, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই টেন্ডার সম্পন্ন করা হবে। যিনি বা যে প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হবেন, নিয়ম অনুযায়ী তাঁকেই কাজ দেওয়া হবে। মোস্তফা কামাল বলেন, এ কথার পর মিন্টু মুঠোফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি টেন্ডারের শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান এবং তাঁকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি বিব্রতকর মনে হওয়ায় তিনি মিন্টুকে ফোন রাখতে বলেন। কিন্তু এরপরও টেন্ডারটি তাঁদের দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে থাপ্পড় মারার হুমকি দেওয়া হয় এবং মারতে উদ্যত হওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন প্রকল্প পরিচালক।
প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার চার মিনিটের ফুটেজেও টেন্ডারের শর্ত নিয়ে আলোচনার দৃশ্য দেখা যায়। ফুটেজ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু ওই কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের টেন্ডারে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে কথা হয়। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি এ শর্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে প্রকল্প পরিচালককে উদ্দেশ করে ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ বলতে শোনা যায়।
মোস্তফা কামাল জানান, টেন্ডারে আইএসও সনদের শর্তটি এককভাবে যুক্ত করা হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা সাপেক্ষে এ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি ১৭ বছর বঞ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করেন। জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘নেতা আমিও ছিলাম।’ এরপর কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, টেন্ডারপ্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনার কথা বলার পরও তাঁকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদ করলে মিন্টু তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াকে বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কেন তাঁকে হুমকি দেব? থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করব কেন? এসব মিথ্যা। পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’
টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে সরকারি দপ্তরে একজন প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







