পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ নিয়ে কয়েকজন ডিলার নিয়োগের আবেদন প্রার্থী ও স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আব্দুল কাদেরের সার ডিলার লাইসেন্স বাতিল চেয়ে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার লিখিত অভিযোগ জানায়। একই পরিবারে পিতা- পুত্রের নামে লাইসেন্স হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নে একজন সার ডিলার নিয়োগ দেয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় চলতি বছরের ৩১ আগস্ট। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইউনিয়নে ১৬ জন আবেদন করেন। বৈধ কাগজপত্র দিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়।পরে আবেদনকারীদের সরজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন উপজেলা কৃষি অফিসার। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসার তাদের মনগড়াভাবে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে কী কারণে বা কিসের বিনিময়ে মোঃ আব্দুল কাদেরের নামে সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করেন।
যার পিতা শফিকুর রহমানের নামে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স রয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ বিধিমালা ২০২৬ এ সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ্য করা আছে যে, একই পরিবারের একজনের ডিলারশীপ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে ডিলারশীপ বা খুচরা বিক্রেতা আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে বা ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না। বৈধ একাধিক ব্যক্তি থাকা সত্বেও কি়ভাবে একই পরিবারে পিতা- পুত্রের নামে লাইসেন্স হয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তী নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তোড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ,রসুল,ইদ্রিস আলী,আজিজ,আলালসহ আরো একাধিক কৃষক জানান,আব্দুল কাদের তার পিতা শফিকুর রহমানের লাইসেন্স দিয়ে গাড়িতে এলাকায় সার বিক্রি করে। কিছুদিন আগে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় আমরা আটক করি। পরে পরিষদ থেকে কৃষকের মাঝে সার বিতরণ করা হয়। উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের মুল হোতা শফিকুর রহমান ও আব্দুল কাদের। তাদের একটি লাইসেন্স থেকেও আমরা সার কোনদিন ঠিকমত পাইনি। আবার নতুন করে তাদেরকেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এতে ইউনিয়নের কৃষকদের সার না পাওয়ার ভোগান্তি সে আর মোচন হবেনা। শফিকুর রহমানের ডিলার তোড়িয়া বাজারে হওয়ার কথা কিন্তু তাদের দোকান রয়েছে ফকিরগঞ্জ বাজারে। তোড়িয়া বাজারে ডিলার পয়েন্ট হলে কৃষকদের সুবিধার কথাও জানান তারা।
ডিলার আবেদন প্রার্থী দেলয়ার হোসেন, কফিল উদ্দিন,শাহিদুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান জানান,আবেদনকারী ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনই অবৈধ।আর অবৈধ আবেদন প্রার্থীকে নীতিমালার বাইরে থেকে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। প্রয়োজনে তদন্ত করে আব্দুল কাদেরের লাইসেন্স বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা।
আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ডিলার নিয়োগ আবেদন কারীদের তথ্য কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটিকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোসা.শুকরিয়া পারভীনকে মুঠোফোনে কল করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:







