ভোলা সরকারি কলেজের একাডেমিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশি উপস্থিতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট প্রশ্ন "ক্যাম্পাসে লেখাপড়া বাদ দিয়ে পুলিশ কেন?"
সাম্প্রতিক সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, "আমরা শিক্ষার পরিবেশ চাই, পুলিশি পাহারা নয়" একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুক্তবুদ্ধি চর্চা, আড্ডা এবং জ্ঞানার্জনের স্থান। কিন্তু সেখানে হঠাৎ করে পুলিশের এমন উপস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাসে পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেয়ার কথা, অথচ আমাদের এখন পুলিশি চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে কেন এই পুলিশি পাহারা? আমরা কি অপরাধী? শিক্ষার মানের উন্নয়ন বাদ দিয়ে প্রশাসন কেন নিরাপত্তার নামে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, সেটাই আমাদের প্রধান জিজ্ঞাসা।
স্নাতক ১ম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্ক এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু পুলিশ দিয়ে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে পুলিশি তৎপরতা বন্ধ করে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।"
অন্যদিকে, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল জানান, ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নাশকতা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। এটি কোনো ভীতি প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।" সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটানো উদ্দেশ্য নয়।
দুটি দলের কর্মসূচি ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে, এমন আশঙ্কাতেই এই বাড়তি সতর্কতা। তবে শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি কলেজ প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে ।
আরও পড়ুন:







