খুলনায় অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। ১০ দিনের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ৩২০টি মামলা দায়ের এবং ২০৬টি মোটরযান আটক করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি ট্রাফিক চেকপোস্ট কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে নজরদারি, চার উপজেলায় যৌথ অভিযান।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগে রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কার্যক্রমে জেলা পুলিশ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
যৌথ অভিযানের লক্ষ্য ছিল অপরাধীদের শনাক্ত করা, বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। রূপসা এলাকায় হত্যা, দস্যুতা ও অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তারের তথ্যও আগের অভিযানের সংবাদে প্রকাশিত হয়েছিল।
ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ৩২০ মামলা।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। ৫ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ট্রাফিক চেকপোস্ট কার্যক্রমে ৩২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময়ে ২০৬টি মোটরযান আটক করা হয়।
সড়কে আইন অমান্য, যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত চেকপোস্ট ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ওই সময় তিনি জানান, চলতি বছরে জেলায় সংঘটিত ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছিল এবং বাকি ১০টি ঘটনার তদন্ত চলছিল। এটি ছিল আগের সংবাদ সম্মেলনের সময়কার তথ্য, বর্তমান অভিযানের পৃথক পরিসংখ্যান নয়।
অপরাধের ঘটনা তদন্ত, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের তথ্য ও সহযোগিতাও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা।
খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে জেলা পুলিশ। অপরাধসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:







