গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্লিমার ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় হামলা, গাড়ি চালককে মারধর করে আটকে রাখা এবং কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে টঙ্গী পূর্ব থানা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দেয়া মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাঁর নির্দেশনায় জুট ব্যবসায়ী মো. শাহীন, গিয়াস, ছোট শাহীনসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
গত ৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্লিমার ফ্যাশনস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার মো. লিয়াকত হোসেনের দেয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , ঘটনার দিন একদল ব্যক্তি কারখানায় প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় এক ব্যক্তিকে মারধর করে আটকে রাখা হয় এবং কারখানার কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পরে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা কৌশলে অন্য একটি গাড়িতে করে কিছু মালামাল কারখানার সামনে রেখে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কারখানার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার স্বপন বলেন , ঘটনার পর চার দিন ধরে চারটি অভিযোগ লিখে নিয়ে গেলেও থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এবং মূল অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে তাদের। এ ঘটনার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি একই সঙ্গে অভিযোগের পরও প্রত্যাশিত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থাকে দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাহ হোসেন সানি বলেন, নুরুজ্জামান আওয়ামী সুবিধাবাদী ও মামলাবাজ। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর শ্রমিকদলের সদস্যসচিব মো. আব্দুল মোমেন বলেন, নুরুজ্জামান শ্রমিকদলের সক্রিয় কোনো সদস্য নন। তাঁর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম বলেন, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। এবং ঘটনার সময় নুরুজ্জামান ঢাকার বাইরে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ মামলা করতে চাইলে থানায় মামলা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে গ্লিমার ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান রবিউল আলম বলেন , ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পর থেকে থানার ওসির কাছে বার বার যাওয়ার পরও মামলা নিচ্ছে না। বরং মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে মামলার করতে বলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন:







