বুধবার

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

ফরিদপুর মেডিকেলে সাড়ে ২৩ কোটি টাকার যন্ত্র অব্যবহৃত, এমএসআর ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ

শরিফুল ইসলাম,ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৩

শেয়ার

ফরিদপুর মেডিকেলে সাড়ে ২৩ কোটি টাকার যন্ত্র অব্যবহৃত, এমএসআর ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ
ছবি; বাংলা এডিশন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি চিকিৎসা যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে একটি যন্ত্র স্থাপনের পরও চালু হয়নি, অন্যটি পড়ে রয়েছে বাক্সবন্দি অবস্থায়। পাশাপাশি চিকিৎসা সামগ্রী (এমএসআর) ক্রয়, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা এবং আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া দুদকের অভিযান মঙ্গলবার রাতে শেষ হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটের জন্য প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর যন্ত্র কেনা হয়। তবে যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। একই অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগের জন্য ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যাথল্যাব যন্ত্র স্থাপন করা হলেও সেটিও চালু করা হয়নি।

দুদকের অভিযোগ, যন্ত্র দুটি চালু না করেই সংশ্লিষ্ট দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর কেনা এবং ক্যাথল্যাব চালু না হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, যন্ত্র দুটি কেনা ও স্থাপনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

হাসপাতালের এমএসআর বা চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় ও মজুতের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি পেয়েছে দুদক। অভিযানে ‘ফেব্রিক্স’ নামের একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং ‘হেক্সাটন’ নামের ওষুধের বোতলসংখ্যায় অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা।

এ ছাড়া হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর ক্রয়ের কার্যাদেশে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্ম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব সামগ্রী সরবরাহ করেনি। তা সত্ত্বেও অন্যান্য সামগ্রীর বিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আদায় ও সরকারি কোষাগারে জমার বিষয়েও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে মোট পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নষ্ট এবং তিনটি চালু রয়েছে। তবে গত এক মাসে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ কোনো অর্থ জমা হয়নি বলে অভিযানে জানা গেছে। এ ঘটনায় অনিয়মের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুদক।

এ ছাড়া হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, দুদক যেসব তথ্য চেয়েছে, সেগুলো দিয়ে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। হাসপাতালের দুটি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা না হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে জানান হাসপাতালের এই কর্মকর্তা।