রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পে হামলা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আসামিরা প্রকল্পে প্রবেশ করে ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ ও নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা মূল ফটক, গ্লাস ও আসবাব ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, রড, বাইক ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, প্রকল্পের মূল ফটক, থাইগ্লাস ও কাঁচি গেট ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এ ছাড়া অফিসের ভেতরে কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও আলমারি ভাঙচুর করে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন মাপের ২০০ ফুট তার, যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড এবং ফ্ল্যাটমালিকের চার লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটার নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুটের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিওতে’ অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টেলিভিশন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও মূল্যবান আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে ৯৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর মধ্যে দামি শুটিং ও কারিগরি সরঞ্জামও রয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)।
এই ১৩ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







