নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলায় আবু তাহের (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে দেওপুর গ্রামের আবু তাহের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দেওপুর এলাকার রাস্তার ওপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে হত্যাচেষ্টায় অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযুক্তরা হলেন—দেওপুর গ্রামের খালেদ সাইফুল্লাহ (৩২), মো. রুবেল মিয়া (৩৫), মো. রুমান মিয়া (৩০), মো. সুফায়েল (২৭), বাবু মিয়া (২৩), মো. মোস্তফা (২১), আলিম উদ্দিন (৫০), সেলিম মিয়া (৩৮), আ. মোতালিব (৫৫) এবং আবুল কালাম (৫২)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা রামদা ও কুড়ালের মতো দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আবু তাহেরকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে তার মাথা, চোয়াল, বাম পা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
আহত আবু তাহের বলেন, "গত শনিবার আমরা পাশের মৌতল গ্রামে বিলে গিয়েছিলাম। সেখানে জামাল, রুবেল ও আমি বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে ইস্কান্দার তালুকদারের বাড়ির কাছে আসি। সেখান থেকে জামাল ও রুবেল বাজারের দিকে চলে যায় এবং আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে বাবুলের বাড়ির পাশে পৌঁছালে হঠাৎ রুমান নামের একটি ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। সে উচ্চশব্দে হাঁক দিয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে অন্যরা এসে আমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে খালেদ সাইফুল্লাহর হাতে একটি পিস্তলও ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী পক্ষ থেকে সেলিম জানান, "ঘটনার রাতে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমার ভাতিজারা সবাই পেশাগত কাজে বাইরে থাকে, তারা অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকে না। আবু তাহের দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছে।"
তিনি আরও বলেন, "এর আগেও আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাহের তার শালী তাসলিমা আক্তার এবং কিছু সহযোগীকে দিয়ে আমার (সেলিম) সহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করিয়েছিল। ওই মিথ্যা মামলায় আমাদের অপূরণীয় আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতি হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।"
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, দেওপুরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবু তাহেরের স্ত্রী বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন:







