ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নবদম্পতিকে গভীর রাতে আটক করে থানায় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় এক মাস পর রাত ৩টার দিকে তাদের থানায় নেয়া হয়। পরে তরুণীর মায়ের করা মামলায় তরুণের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। তবে নবদম্পতিকে থানায় নেয়ার আগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান ও বিজয়নগরের রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন গত ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নুসরাত স্বামীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এসআই শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে আটক করে সরাইল থানায় নিয়ে যায়।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানউল্লাহ বলেন, সরাইল থানা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা সেই সহযোগিতা করেছি।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, প্রথমে একটি জিডি করা হয়েছিল। ওই সময় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না। জিডির ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম বলেন, কিসের জিডি, কিসের অভিযোগ, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অন্যদিকে, থানার মুন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়া দাবি করেন, ২১ জুলাই জিডি বা অভিযোগ রেকর্ড খাতায় লেখা হয়নি; সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, অভিযোগ, মামলা অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারের অবশ্যই আইনগত কারণ থাকতে হবে।
নবদম্পতিকে থানায় নেয়ার আইনগত ভিত্তি এবং জিডি ও মামলা দায়েরের সময় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন:







