মঙ্গলবার

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা দেখিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০১

শেয়ার

কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা দেখিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভেকু দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকশ কিশোরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে হামলা চালানো হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ভাঙচুর বন্ধ হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরশীনগর এলাকায়, কাজল দেওয়ানের বাড়ির পাশে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১০টার দিকে মাইনুদ্দিনের নির্দেশে ভেকু দিয়ে তাঁদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।

জাহিদা বেগমের অভিযোগ, মাইনুদ্দিনের নির্দেশে বাশার, রাজিবসহ ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেন। এ ছাড়া কয়েকশ কিশোরকে ভাড়ায় এনে ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজেদের বসতবাড়ি ভাঙচুর হতে দেখে নিরুপায় হয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন ভুক্তভোগীরা। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ভাঙচুরের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে উপস্থাপন করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ওই স্থানে রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি টেন্ডার হয়েছে।

তবে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ও শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে ওই টেন্ডারের দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে জায়গাটি সরকারি রাস্তা কি না, সেখানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে কি না এবং জমির প্রকৃত মালিকানা কার—এসব বিষয় সরকারি নথিপত্র যাচাই করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মাইনুদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখল ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জামিলুল হক বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি চক্র ব্যক্তিগত জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জমির মালিকানা, রাস্তার সরকারি অনুমোদন এবং ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।