‘আমার মা ভীষণ অসুস্থ। আগামীকাল সকালে মাকে দেখতে বাড়িতে যাব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যদি ক্ষমা না করেন, তাহলে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে দিয়েন।’
ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় আবেগঘন কণ্ঠে এভাবেই নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান ঢাকার ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা।
সম্প্রতি ধামরাইয়ে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের পর নিজেদের মধ্যে বিরোধ কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের সঙ্গে মারামারিতে নিজের মেয়ের জামাই ও অনুসারীরা গুরুতর আহত হয়৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে সরাসরি মারামারির চ্যালেঞ্জ জানান চেয়ারম্যান রোমা।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে চেয়ারম্যান রোমার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সংসদ সদস্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রোমাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
এদিকে, মামলার ঘটনায় একজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর চেয়ারম্যান রোমাসহ তাঁর অনুসারীরা আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
ফেসবুক ভিডিও বার্তায় চেয়ারম্যান রোমা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলার আসামি হয়েও রাজনীতি করেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাঁর বিসিএস ক্যাডার ভাইয়ের পদোন্নতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ায় তাঁর নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে বলে জানান।
রোমার অভিযোগ, বর্তমানে একটি মিথ্যা মামলায় তাঁর নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তার পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন উপজেলা বিএনপি'র সহ সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ছিলেন৷ তার পুরো পরিবার বিএনপি৷ এখন তাকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বানানো হচ্ছে যা অতন্ত দুঃখজনক৷
এসময় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে নিজের চাচা এবং বাবার সমতুল্য উল্লেখ করে চেয়ারম্যান রোমা বলেন, বাবা-সমতুল্য ব্যক্তির কাছে একজন ছেলে ভুল করলে তা স্বাভাবিক। সাংবাদিকদের কাছে সংসদ সদস্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এমন মন্তব্য করা তাঁর ঠিক হয়নি। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। তার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়৷ নিজের ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট করাকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা৷
আরও পড়ুন:







