সোমবার

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির গুলিতে যুবক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

শফিক সরকার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৪

শেয়ার

হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির গুলিতে যুবক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
ছবি; বাংলা এডিশন

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক অপ্রীতিকর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নোমান মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হালুয়াঘাট সদরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার ভোরে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া (জলজলিয়া) এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান মিয়া উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোর পৌনে ছয়টার দিকে বিজিবির একটি টহলদল ঝলঝলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে কিছু মালামাল জব্দ করে। জব্দ করা মালামাল নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা অতর্কিতভাবে বিজিবি টহলদলের ওপর হামলা চালায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকায় এবং বিজিবির এক সদস্য আহত হলে নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন সদস্যরা। পরে নোমান মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত নোমানের ছোট ভাই আবু রাইহান বিজিবির দাবি অস্বীকার করে অভিযোগ করেন, রাতে এলাকায় বিজিবি সদস্যরা গরু খুঁজছিলেন। পরে ফোন পেয়ে তাঁর ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়।

আবু রাইহান আরও অভিযোগ করেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও তাঁর ভাইকে প্রায় তিন ঘণ্টা ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয় এবং কাউকে তাঁর কাছে ঘেঁষতে বা হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি। সময়মতো সুচিকিৎসা পেলে তাঁর ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ:

এদিকে নোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঝলঝলিয়া এলাকার শত শত মানুষ হালুয়াঘাট সদরে এসে জড়ো হন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে ময়মনসিংহ-আঞ্চলিক মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল বলেন, ‘সকালে আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছি। বিজিবির এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।’

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল, তা সঠিক তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।