রবিবার

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে পায়রায় চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব

ইমরান হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৬

শেয়ার

প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে পায়রায় চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব
ছবি: বাংলা এডিশন

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক নজরদারির তোয়াক্কা না করে পায়রা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে অবাধে মা ইলিশ শিকার। প্রজনন মৌসুমের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়েও এক শ্রেণির অসাধু জেলে বেপরোয়াভাবে ইলিশ শিকারে লিপ্ত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদীর পাংগাশিয়া, আলগী, লেবুখালী ও আংগারিয়া এলাকা এবং মুরাদিয়া, লোহালিয়া ও পান্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন এ অবৈধ মাছ শিকার চলছে। নদীগুলোতে মাছ ধরার ট্রলারে অত্যাধুনিক ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ সংযোজন করে অসাধু জেলেরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রবিবার উপজেলার পাংগাশিয়ার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা নির্বিঘ্নে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করছেন। অথচ জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে সরকার ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পাংগাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে যদি নির্বিচারে মা ইলিশ ধ্বংস করা হয়, তবে অচিরেই আমাদের নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে জাতীয় মাছ ইলিশ। অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।”

নদীতীরবর্তী সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রজনন মৌসুমে এভাবে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক ইলিশ উৎপাদনে।

অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, “আমাদের একটিমাত্র টহল টিম রয়েছে এবং তারা একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে সব এলাকায় সমানভাবে নজরদারি বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে। তবে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমি আজ সকাল থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে একটি দাপ্তরিক মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশানুযায়ী, কেবল লোক দেখানো নয়, বরং মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি।