ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন যারা নির্বাচিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে তাদের কেউ ভোট চাইতে আসলে বিদ্যুৎ ও সারের হিসাব বুঝে নেবেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারা জনগণের জন্য কী কাজ করেছে।
তিনি বলেন নির্বাচনের পর সরকারি দল দুর্নীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি ও দলীয়করণ ব্যতিত কিছুই করতে পারেনি। আগামীতেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তারা নির্বাচিত হলে জনগণ তাদের দ্বারা শোষিত হবে। তাদের দুর্নীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি দলীয়করণ আরও বেড়ে যাবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার চিলারং ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কাজ করবেন।
তিনি বলেন জনগণ তাদের খেতমতের জন্য নির্বাচিত করে সংসদে পাঠালে সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো বরাদ্দে দলীয়করণ করা হবে না। দলমত ধর্মবর্ণ জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে পাবে।
তিনি আরও বলেন অতীতে যারা এমপি হয়েছে তাদের এবং আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ঠাকুরগাঁও বাসীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কেবলমাত্র ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে তাদের যাদেরকে জনগণ নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিতরা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীরা ধনী হয়েছে আর জনগণ ক্রমেই গরিব হয়েছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী বরাবরই আপসহীন ভূমিকা রেখে আসছে।
জামায়াতে ইসলামী দলমত ধর্মবর্ণ জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে বৈষম্যহীন একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে ঠাকুরগাঁও থেকেই। মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজমুক্ত গড়তে তিনি স্থানীয়দের কাছে সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে বলেন একটিবার দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে নির্বাচিত করে সুযোগ দিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে দেওয়ার হোসেন বলেন সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা আসবে না। তিনি বলেন যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ লালন-পালন করে, মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষিত হয়েছে। আগামীতে শোষণের হাত থেকে মুক্তির জন্য ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। সচেতন নাগরিকদের এবারের উপনির্বাচনে সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মাদক কারবারি লুটেরা দুর্নীতিবাজ দখলদার ও দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলার ওলামা বিভাগের সভাপতি ফজলে রাব্বি মোর্তজাবীর সভাপতিত্বে এবং চিলারং ইউনিয়ন সভাপতি মোজাম্মেল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও শহর শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসান। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







