রবিবার

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাজেকের অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়িতে মুখোশধারীদের বিক্ষোভ

আশরাফুল রনি, খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৩

আপডেট: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৪

শেয়ার

সাজেকের অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়িতে মুখোশধারীদের বিক্ষোভ
ছবি: বাংলা এডিশন

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।

রবিবার খাগড়াছড়ি সদরের টিউফা স্কুল গেট এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে স্বনির্ভরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মিছিল থেকে সাজেকবাসীর অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানানো হয়। এ সময় জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন পিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রাঞ্জল চাকমা। তিনি সাজেকবাসীর অবরোধ কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের প্রতিবাদ করেন। একই সঙ্গে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা ও মদত বন্ধের দাবি জানান তিনি।

সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করেছে।

তবে এই অবরোধের নেপথ্যে ইউপিডিএফের ইন্ধন ও চাপ থাকার অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও অবরোধের সঙ্গে ইউপিডিএফের সরাসরি সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, অবরোধের দাবিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবরোধ আহ্বানকারী সংগঠনগুলোর অন্যতম দাবি, সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। তবে একই এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র অবস্থান থাকার অভিযোগ থাকলেও তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ কিংবা তাদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি কেন তোলা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

তাদের প্রশ্ন, সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের অবসানই যদি মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে উভয় পক্ষের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি না তুলে কেবল একটি সংগঠনকে লক্ষ্য করে অবরোধ কেন?

স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, একটি সংগঠনকে সরিয়ে দিয়ে অন্য সংগঠনের জন্য এলাকায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে কি না।

এমন প্রেক্ষাপটে অবরোধ আহ্বানকারী সংগঠনগুলোর দাবির ধরন, ইউপিডিএফের সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং অবরোধের সমর্থনে ইউপিডিএফ-সমর্থিত পিসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার বিরোধ ও চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।