রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক-দীঘিনালা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছেন স্থানীয়রা। সাজেক থেকে জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়া, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
অবরোধের কারণে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। পাশাপাশি গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
অবরোধকারী সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তাদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এর আগে শনিবার সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে অবরোধের দাবিকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের জন্য যদি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি কেন? একই এলাকায় সশস্ত্র অবস্থানে থাকা এবং সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ থাকা ইউপিডিএফকেও কেন সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে না?
স্থানীয়দের এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে সাজেকে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র বিরোধের একাধিক ঘটনা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত খিসা) ও জেএসএস (সন্তু লারমা)-সমর্থিত সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এর আগে ও পরেও সাজেক এলাকায় দুই পক্ষের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সব সশস্ত্র পক্ষের তৎপরতা বন্ধ এবং সংঘাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সমানভাবে তোলা উচিত কি না। তবে ইউপিডিএফকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে অবরোধকারী সংগঠন দুটির কোনো পৃথক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবরোধকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। ফলে অবরোধের সমাধান, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:







