রবিবার

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

ফেসবুকে পরিচয়ের ১৭ দিনের মাথায় রাজুর ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৪

শেয়ার

ফেসবুকে পরিচয়ের ১৭ দিনের মাথায় রাজুর ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন
ছবি; সংগৃহীত

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের কক্সবাজার সফর নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফেসবুকে পরিচয়ের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় রাজু চৌধুরী নামে এক যুবকের ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল সে। সেখান থেকে ফেরার পথেই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় তাজমিন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজু চৌধুরী কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তার বাড়ি চকরিয়া-লামা এলাকার কুমারী ইউনিয়নের বরছনখোলা গ্রামে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি কেন যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ জানান, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর রাজুর সঙ্গে তাদের কাউন্টারে আসে তাজমিন। সেখানে পরদিন কুমিল্লায় ফেরার জন্য একটি বাসের টিকিট কাটেন রাজু।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি বাসে কক্সবাজার ছাড়ে তাজমিন। রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় তাকে বাস থেকে নামতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজেও উঠে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। নিখোঁজ থাকার সময় তার অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন স্বজনেরা। মেয়ের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় নিয়েও আগে থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তার মা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় বাস থেকে নামার পর নগরীর রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, গন্তব্যে না নিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজু চৌধুরী কিংবা তাজমিনের পরিচিত অন্য কারও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুমনকেই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

রাজুর সঙ্গে পরিচয়, কক্সবাজার সফর এবং সেখান থেকে ফেরার পর তাজমিনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসায় হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্তে প্রমাণিত তথ্য, পুলিশের বক্তব্য এবং অন্যদের বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।