শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, দুই বাড়িতে আগুন

মোঃ হামজা শেখ, রাজবাড়ী

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮

শেয়ার

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, দুই বাড়িতে আগুন
ছবি সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (২১) হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় জানার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪) ও মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেশপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)। শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ দল দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ঘটনায় রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর পেট কেটে মরদেহ বস্তাবন্দি করা হয়। এরপর বালুভর্তি বস্তা বেঁধে মরদেহটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে একটি ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে একটি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের ব্যবহৃত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় জানার পর শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুটি বাড়িতে আগুন দেন। পুলিশ সুপার জানান, এর মধ্যে একটি বাড়ি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার রোহানদের বিরোধীপক্ষের আলাল সরদারের। অন্য বাড়িটি আলাল সরদারের বোনের।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক জানান, বক্তারপুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রঘুনাথপুর গ্রামে আরেকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গেলেও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছেন তাঁরা। রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়িটিতে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ওই বাড়ির কাছাকাছি পানির উৎস রোহানদের পুকুর। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওই পুকুর থেকে পানি নিতে দিচ্ছেন না। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।