শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

কুমিল্লার লালমাইয়ে শিক্ষার্থী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা: সিএনজি চালকের স্বীকারোক্তি

কে এম জারিদুল ইসলাম, যশোর

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৭

শেয়ার

কুমিল্লার লালমাইয়ে শিক্ষার্থী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা: সিএনজি চালকের স্বীকারোক্তি
ছবি: বাংলা এডিশন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সুমন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। এ সময় চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া নির্ধারণ হয়। পথে তাজমিন চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুমন নির্ধারিত পথ ছেড়ে চাঁদপুরগামী সড়ক দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের একটি নির্জন এলাকায় অটোরিকশাটি নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে অটোরিকশা থামালে অপরিচিত জায়গা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাজমিন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাঁকে বাধা দেন।

পুলিশের দাবি, এ সময় তাজমিন চিৎকার করলে সুমন তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সুমন। পরে ধানক্ষেতের মাটিতে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। এরপর ঘটনাস্থলে নিজের অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। পরে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সূত্রের সহায়তায় অভিযুক্ত সুমনকে শনাক্ত করা হয়। পরে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের বাড়ি যশোরে। পড়াশোনার কারণে তিনি কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় থাকতেন বলে জানা গেছে। বাড়ি ফেরার পথেই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় এই স্কুলছাত্রী।

ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।