চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওহেদ। এ পরিস্থিতির জন্য পৌরসভার গাফিলতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন তিনি। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকাকে ডেঙ্গুর ‘রেড জোন’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভাপতি আব্দুল ওহেদ বলেন, প্রায় দুই বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হতে শুরু করে। তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন। ডেঙ্গুতে চেম্বারের সদস্য ওবাইদুল আজিম রিংকুসহ অনেকে মারা গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকাকে জরুরি ভিত্তিতে রেড জোন ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল গঠন করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
পৌর এলাকায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল ওহেদ বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে এবং পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় ড্রেনেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চললেও যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক স্থানে খাল খননের পর তা ঠিকমতো বন্ধ করা হচ্ছে না। এসব খালে পানি ও ময়লা জমে থাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চেম্বার সভাপতি। তাঁর দাবি, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ বাড়িতে কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া রোগীদের কেউ সেখানে মারা গেলে সেই মৃত্যুর তথ্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ডে নাও থাকতে পারে। ফলে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন চাঁপাই নবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০/৭৫ জন মৃত্যু বরণ করেছেন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শহরের আজাইপুর বিল, বেলেপুকুর, বিদিরপুর, মহানন্দা নদীর পাড়সহ বিভিন্ন বিল, খাল ও পুকুরের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আব্দুল ওহেদ বলেন, শুধু চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চেম্বার সভাপতির দাবি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
আরও পড়ুন:







