শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সিএনজিচালক সুমন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৭

শেয়ার

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সিএনজিচালক সুমন গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে চালক তাকে নিয়ে বিজরার দিকে রওনা হন। বিভিন্ন সড়কে ঘোরানোর পর লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তাজমিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে একপর্যায়ে কাবু হয়ে পড়ে।

গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার স্বীকারোক্তি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছে, তাজমিনকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। এরপর পাশের একটি পুকুরে গোসল করে নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে নেয়। ফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আদালতে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিকে আদালতে উপস্থাপনের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার ও উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধানখেতে মিলেছিল তাজমিনের মরদেহ

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশে পড়ে ছিল অটোরিকশাটি।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বাবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়।

পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সময়মতো বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তাজমিনকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।