বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রুবেল চৌধুরী ফুজায়েলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের এ সিদ্ধান্তে তাঁর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ উঠে গেছে। দীর্ঘদিন পর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই ছাত্রনেতা। একই সঙ্গে ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রুবেল চৌধুরী ফুজায়েল বাংলা এডিশনকে বলেন, দলের ভেতরে কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে প্রায় তিন বছর আগে আমাকে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় পর সব ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ ভীষণ আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। দলের একজন কর্মী হিসেবে এই সিদ্ধান্ত আমার কাছে নতুন করে পথচলার অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকতে গিয়ে নানা নির্যাতন-নিপীড়ন, মামলা ও কারাবরণের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। তবুও দলের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। প্রতিকূল সময়ের সেই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে রুবেল চৌধুরী ফুজায়েল বলেন, "আমি মনে করি, রাজনীতি মানে শুধু পদ-পদবি নয়। রাজনীতি হচ্ছে আদর্শ, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। অতীতের সব ভুল-বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে এখন আমার মূল লক্ষ্য ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের আদর্শে উজ্জীবিত করাও আমার অন্যতম প্রত্যাশা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে চাই।’
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে রুবেল চৌধুরী ফুজায়েলের সামনে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে ধারণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংগঠনকে আরও সু-সংগঠিত করতে তিনি কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, সেটিই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:







