শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাবার নম্বরে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েও বাঁচতে পারেনি তাজমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২২

শেয়ার

বাবার নম্বরে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েও বাঁচতে পারেনি তাজমিন
ছবি; সংগৃহীত

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে এক সিএনজিচালক। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যার কারণ বা মোটিভ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। চালক সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবার কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতের দিকে গাড়ি চালাতে থাকে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছানোর পর আত্মরক্ষার্থে তাজমিন প্রাণভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সে আর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত এবং পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তাদের মূল বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন।