শুক্রবার

৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১৬

শেয়ার

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের বিবস্ত্র ও গলায় গামছা প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রধান অভিযুক্ত সুমনকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।

শুক্রবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আলামত নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে সুমনের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে কিশোরীটিকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার রাতে বাবার ফোনে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠানো তাজমিনের নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি উদ্ধারেও জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে তদন্তকারী দল।

‘বাবা, আমাকে নিয়ে যাও’—বাবার কাছে শেষ মেসেজ ছিল স্কুলছাত্রী তাজমিনের‘বাবা, আমাকে নিয়ে যাও’—বাবার কাছে শেষ মেসেজ ছিল স্কুলছাত্রী তাজমিনের

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তার শরীরে পোশাক ছিল না এবং গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। আশপাশের ধানক্ষেতে ব্যাপক ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীমের মেয়ে। আব্দুল আলীম চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। চার দিন পর জগতপুরের নির্জন মাঠে তার নিথর দেহের সন্ধান মেলে।

গতকাল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা তাজমিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে যান এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন। এর আগে ঘটনার দিন রাতে নিহতের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুততম সময়ে প্রধান আসামিকে জালে তুলতে সক্ষম হলো।