বৃহস্পতিবার

৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

সিজারের পর পেটে গজ থাকার অভিযোগ, চার মাস পর নার্সিং শিক্ষার্থীর মৃত্যু

শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৭

শেয়ার

সিজারের পর পেটে গজ থাকার অভিযোগ, চার মাস পর নার্সিং শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: বাংলা এডিশন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন বিথী আক্তার নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিথী আক্তার ফরিদপুর ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেছিলেন। নার্স হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তান জন্মের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তার সেই স্বপ্ন থেমে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার।

পরিবারের ভাষ্য, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় তার পেটের ভেতরে গজ পাওয়া যায় বলে দাবি স্বজনদের।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পেটের ভেতরে গজ থাকার কারণে বিথীর শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার অন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয় এবং বাইপাস সার্জারিও করতে হয় বলে জানান স্বজনরা। এরপর থেকেই একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ অসুস্থতায় বিথীর শারীরিক অবস্থারও দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের দাবি, সিজারের আগে তার ওজন ছিল প্রায় ৬১ কেজি। পরবর্তীতে তা কমে প্রায় ৩৯ কেজিতে নেমে আসে।

অসুস্থতার কারণে নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন বিথী। দীর্ঘ চিকিৎসার সময় সন্তানকে দূর থেকে দেখতে হয়েছে তাকে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এর আগে নিজের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলার সময় বিথী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। তার দাবি ছিল, পেটে গজ থেকে যাওয়ার পর সংক্রমণ তৈরি হয় এবং এতে পেটের নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসার পেছনে পরিবারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বলেও স্বজনরা জানান।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে পেটে গজ থাকার অভিযোগ কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিথী আক্তার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে তার চিকিৎসা এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে।

বিথী আক্তারের মৃত্যুর পর সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ থাকার অভিযোগের সত্যতা এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।