বুধবার

৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৭

শেয়ার

চট্টগ্রামে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: বাংলা এডিশন

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর পণ্যবাহী পিকআপের গতিরোধ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চালক-হেলপারকে মারধর এবং প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও এসআরবি-৭-এর যৌথ আভিযানিক দল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জেলার সরাইল উপজেলার সরাইল সদর ইউনিয়নের তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হৃদয় (২৭)। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন তুলাতুলি বস্তি এলাকার বাসিন্দা এবং মো. মাসুদের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি।

এসআরবি-৯ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২:৪৫ মিনিটের দিকে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি সিগারেট বহনকারী একটি পিকআপ চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন কাজীর দেউড়ি এলাকার এসএ পরিবহন অফিস থেকে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করে।

এ সময় তারা পিকআপের চালক মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও হেলপারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চালক চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে পিকআপের হেলপার মো. জাহিদ বাধা দিতে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে পিকআপে থাকা প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট অন্য একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটির আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এসআরবি-৭-এর সিপিএসসি, চট্টগ্রামের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল সরাইলে অভিযান চালায়।

অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৩৫, তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারার মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

এসআরবি-৯ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘবদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বাহিনীটি সক্রিয় রয়েছে।



আরও পড়ুন: