দীর্ঘ দুই বছর বিরতি শেষে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনালে ভিড়েছে চায়নার পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ নামের একটি জাহাজ।
বুধবার সকাল ১১ টায় বন্দরের ক্রয়কৃত আধুনিক ৫টি কার্গো হ্যান্ডিলিং ইকুইপমেন্ট নিয়ে জাহাজটি সরাসরি টার্মিনালে নোঙ্গর করে।
আধুনিক এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে ৮০ টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি কোয়ে গ্যান্টি ক্রেন, ৪০ টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি টায়ার্ড গ্যান্টি ক্রেন ও ৮০ হাজার টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মোবাইল হারবার ক্রেন। বন্দরের প্রথম টার্মিনালে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডিলিং কার্যক্রম আরও আধুনিক ও দ্রুত করতে এসব ইকুইপমেন্ট ক্রয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১৬৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার গভীরতা নিয়ে এ জাহাজটি ১৮ সেপ্টেম্বর চায়নার পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পাথর নিয়ে এমভি জেইন নামের একটি জাহজ এবং একই বছর ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি ডা হং-১৬ নামের অপর একটি মাদারভ্যাসেল সরাসরি বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করে।
তবে এই বন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে রাবনবাদ চ্যানেলের নাব্যতা সংকট দূরীকরণে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি পায়রাকে ডিজিটালাইজড পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলমান রয়েছে এমনটাই বলছে বন্দরের দায়িত্বরতরা।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম বলেন, ‘পায়রা বন্দরের জন্য আজ একটি শুভদিন। কারণ দীর্ঘ প্রায় আরাই বছর পর সরাসরি বন্দরের জেটিতে জাহাজ ভিরেছে। আর এতেই প্রমাণ করে যে আমরা ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে এই ক্রেনগুলো সংযুক্ত হওয়ার মধ্যেদিয়ে ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বাথ পুরোপুরি সক্ষমত পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে গাড়ি আমদানি করার জন্য নিরাপদ বার্থিং সংরক্ষণও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৪৮ মিটারের কার ডেডিকেটেড রোরও জেটি। এবং ৭৭ হাজার বর্গমিটারের পার্কিং ইয়ার্ড ও ৩ হাজার বর্গমিটারের কার শেড। আর এই শেডে একসঙ্গে পার্কিং করা যাবে ৩ হাজার ৫ শত গাড়ি।’
এছাড়া পায়রা বন্দরকে গ্রীন পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান বন্দর চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন:







