সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও তৃণমূলভিত্তিক করতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের একটি অংশের মতে, সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত কমিটি নবায়ন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন সংগঠনের কার্যক্রমে গতি আসবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সভাপতি পদে তাজুল ইসলাম বাবুল ভূইয়াকে দেখতে চান তাঁর সমর্থক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
তাঁদের দাবি, তাজুল ইসলাম বাবুল ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাঁকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা নতুন নেতৃত্ব গঠনের আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
সাম্প্রতিক স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে তাজুল ইসলাম বাবুল ভূইয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতেও তাঁকে সদস্য করা হয়।
সমর্থকদের ভাষ্য, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করে নেতৃত্বে আনা হলে তৃণমূলের সঙ্গে দলের নেতৃত্বের দূরত্ব কমবে। একই সঙ্গে তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণও বাড়বে।
তাঁরা মনে করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের নেতৃত্বে এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে আরও সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তাজুল ইসলাম বাবুল ভূইয়ার সমর্থকদের প্রত্যাশা, দলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয়া হলে তৃণমূলের মতামত, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠের সক্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক জহির বলেন, ৫ আগস্টের আগে দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে বুক পেতে দাঁড়িয়েছেন, মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও যারা দলের পতাকা ছাড়েননি যুবদলের নেতৃত্বে তাদেরই মূল্যায়ন করা উচিত। সু-সময়ের সুবিধাভোগী কিংবা হঠাৎ করে সামনে আসা কাউকে নয়, দলের কঠিন সময়ে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের হাতেই সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন, পুলিশের মামলা-হয়রানি ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের ত্যাগকে যদি মূল্যায়ন করা না হয়, তাহলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। বিএনপির দুঃসময়ের পরীক্ষিত সৈনিকদের নেতৃত্বে আনতে হবে। ত্যাগী, সক্রিয় ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই যুবদলকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সু-সংগঠিত করা সম্ভব।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এই দাবির মধ্য দিয়ে মূলত একটি বিষয়ই সামনে এসেছে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে পরীক্ষিত, সক্রিয় ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃত্বকে মূল্যায়নের প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন:







