ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আব্দুর রহমান সম্রাট নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে পথচারীরা নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে বাঁধা একটি জুতার মালা ঝুলতে দেখেন। পরে ওই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি নামিয়ে এলাকা পরিষ্কার করেন।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান সম্রাট ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কাঞ্চননগর মহল্লার মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে। সদর থানা-পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কী উদ্দেশ্যে এবং কার প্ররোচনায় তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের জরুরি সভা
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাগ্নেসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সভায় বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য অবমাননার নিন্দা জানানো হয়। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানের প্রতি এমন অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
উসকানি বা সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশের একাধিক ইউনিটের তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পেছনে কোনো উসকানি বা সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্মারক ও বীরশ্রেষ্ঠদের মর্যাদাহানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অরক্ষিত ও নির্মাণাধীন থাকার সুযোগে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:







