চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অনুদানের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে শরীফুজ্জামান বলেন, তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি নন এবং দল তাদের ওই পদে বসিয়েছে। এলাকার মানুষ তাদের চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে এলাকার মানুষের তুলনায় দলের মানুষকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানান জেলা পরিষদের প্রশাসক।
জেলা পরিষদের অনুদান নিয়ে বক্তব্য
ভিডিওতে শরীফুজ্জামান আরও বলেন, তার দলের নেতা-কর্মীদের বাইরে জেলা পরিষদ থেকে কোনো অনুদান দেওয়া হবে না। কোনো ইউনিয়নে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশ ছাড়া কোনো অনুদান দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে এসব বক্তব্য দিতে দেখা ও শোনা যায়। বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় শরীফুজ্জামান এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ নির্বাচনে দুই আসনেই বিএনপির পরাজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হন শরীফুজ্জামান।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির রুহুল আমীন।
দলের নির্বাচনী পরাজয়ের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে শরীফুজ্জামানের এমন বক্তব্যের ভিডিও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:







